
মুখ্যমন্ত্রী জানেন কি !
আপনি বারেবারেই বিভিন্ন সভা সমিতি থেকে বলছেন, কোথাও কেউ অবৈধভাবে বালি, পাথর, কয়লা পাচার করলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সে যে কোন দলেরই লোক হোক না কেন।
কিন্তু এই অবৈধ কারবার যদি আপনারই প্রশাসনের লোকেরা করে? তাদের বিরুদ্ধে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ওয়েস্টবেঙ্গল মিনারেল ডেভলপমেন্ট এন্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড-এর পুরুলিয়া জোনের মাইনিং অফিসার সনাতন মাহাতো স্টারডি নিকেতন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থা কে বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়ের থানার পাত্রসায়ের ব্লকের ঘোড়াডাঙ্গা মৌজা থেকে বালি তোলার অনুমতি দেয়। এরপরে এই কোম্পানী নদী থেকে বালি তুলে নিয়ে আসার জন্য সেচ দপ্তরের কাছে অস্থায়ী সেতু তৈরীর জন্য অনুমতি চায়। সেই অনুমতি নেবার সময়ে তারা অর্ধেক আসল ও অর্ধেক নকল কাগজ (যেমন স্কেচ ম্যাপ, কোথা থেকে বালি তুলে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে ইত্যাদি) জমা দেয়। সূত্রের খবর এর জন্য পূর্ব বর্ধমানের দামোদর ক্যানাল ডিভিশনের ইদিলপুর এলাকার বেশ কিছু কর্মী থেকে কয়েকজন অফিসার কে মোটা টাকার উপঢৌকনও তারা দেন। কোন কাগজপত্র পরীক্ষা না করে, ফিল্ড সার্ভে না করে অনুমতি দিয়ে তারা সেই কাগজ পাঠিয়ে দেন বর্ধমানের তাদের এক্সিকিউটিভ আধিকারিকের অফিসে। সেখানেও সঠিকভাবে কোনরকম পরীক্ষা ছাড়াই অনুমতি দিয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানার পরেই এলাকার লোকেরা জেলাশাসক (পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়া) জেলা পরিষদের সভাধিপতি, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর) সহ বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ করেন। আর এরপরেই অবৈধভাবে অস্থায়ী ব্রিজ তৈরীর সাথে জড়িত ওই সংস্থাটি রাতারাতি তাদের কাজের গতি বাড়িতে দেয়। সূত্রের খবর সেচ দপ্তর থেকে তাদের জানানো হয়, দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারলে তারা বাধ্য হবে কাজ বন্ধ করে দিতে।

এই অবস্থায় বর্ধমান ও বাঁকুড়ায় যেখানে ঠান্ডায় পারদ ৬ থেকে ৭ এর আসপাশে ঘোরাঘুরি করছে সেখানে দামোদরের জলে বেশী করে লোক নামিয়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তৈরী হচ্ছে অস্থায়ী ব্রিজ। আর অদ্ভুতভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকায় সেচ দপ্তর।
দামোদরের বুকে অসংখ্য অস্থায়ী সেতু এভােবই তৈরী হয়েছে। নদী ও নদী বাঁধ রক্ষা করা যাদের প্রথম ও প্রধান কাজ মুলত তারাই প্রথম ইন্ধন দেওয়া শুরু করছে অবৈধ ব্যবসা করার জন্য।
জানা গিয়েছে যে সংস্থাটি ঘোড়াডাঙ্গা মৌজায় বালি তোলার অনুমতি পেয়েছেন আর যেখানে তারা সেতু তৈরী করার কাজ করছেন সেটার দূরত্ব ২৬.৭ কিলোমিটার। ফলে জলের মতন পরিস্কার এত দূরে তারা অবৈধ সেতু নির্মাণ করে এই গোটা জায়গায় বালি তোলার কাজ করবে। অথচ তারা শুধুমাত্র অনুমতি পেয়েছে ঘোড়াডাঙ্গা মৌজার জেএল নং ২৯ এলাকার কয়েকটি মাত্র প্লটের জন্য। সেটিও উল্লেখ রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভলপমেন্ট এন্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড এর দেওয়া অনুমতি পত্রে। তাহলে সমস্ত পেপার খতিয়ে দেখার পরেও কিভাবে অনুমতি দিচ্ছে সেচ দপ্তর !

প্রশ্ন আরোও উঠেছে, ভুল কি একবার হচ্ছে ! বারবার একই জিনিস হচ্ছে এই এলাকায়। এখনো অবধি জানা গিয়েছে সেচ দপ্তর সূত্রেই প্রায় ১২০ টি অবৈধভআবে তৈরী হওয়া কাঠের সেতু রয়ে গিয়েছে দামোদরের বুকে। যাদের বালি তোলার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভেঙে ফেলা হয়নি সেই সেতু।
রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া শিক্ষিত, চিকিৎসক মানুষ। অনেকেই তাঁকে স্বজ্জন বলেও জানেন। তাঁর কানেও এখব পৌঁছায় নি সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাহলে তিনিও কেন এ বিষয়ে নীরব থাকছেন?
বালি মাফিয়াদের টাকার জোরে কি তাহলে সেচ ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে অনায়াসেই যে কোন দুর্নীতি করা যাবে ?
এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।