News Trends of India

দুর্গোৎসবে আলো ঝলমল গ্রেটার নয়ডা

Share:
দুর্গোৎসবে আলো ঝলমল গ্রেটার নয়ডা

গ্রেটার নয়ডা বঙ্গীয় সমাজের প্রথম দুর্গাপূজা, বেলুড় মঠের নিয়ম মেনে আয়োজন; উদ্বোধনে ভুবনেশ্বর কুমার, আর বাংলার লাইভ সম্প্রচার, সঙ্গে বাঙালি খাবার, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

গ্রেটার নয়ডা বঙ্গীয় সমাজের প্রথম দুর্গোৎসব: শহরের উৎসবে নতুন মাত্রা

গ্রেটার নয়ডা, উত্তরপ্রদেশ:
এবার গ্রেটার নয়ডায় দুর্গোৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ। শহরের প্রাচীন ২৫ বছরের দুর্গাপূজার পাশাপাশি গ্রেটার নয়ডা বঙ্গীয় সমাজ আয়োজন করেছে তাদের প্রথম দুর্গাপূজা। এ আয়োজন শুধু বাঙালিদের নয়, সমগ্র শহরের সাংস্কৃতিক আবহকে সমৃদ্ধ করেছে।


ক্রিকেট তারকার হাত ধরে শুভসূচনা

উৎসবের সূচনা করেন ভারতের প্রখ্যাত পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। মাতৃমূর্তির সামনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পূজা উদ্বোধন করেন। ভুবনেশ্বর বলেন, “দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মিলন, সংস্কৃতি আর ঐক্যের উৎসব। গ্রেটার নয়ডায় এত সুন্দর আয়োজন সত্যিই বিশেষ।”


বেলুড় মঠের নিয়মে পূজা

বিশেষত্বের দিক থেকে এই পূজা আলাদা। সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে বেলুড় মঠের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে। মন্ত্রোচ্চারণ থেকে আরতি, ভোগ থেকে বিসর্জন—সবকিছুতেই বজায় ছিল ভক্তি, শৃঙ্খলা ও শুদ্ধতা।

আয়োজকদের কথায়, “আমরা চাই এই পূজা হোক শুদ্ধতার প্রতীক। বেলুড় মঠের নিয়ম মেনে আমরা দুর্গোৎসবকে যথাযোগ্য সম্মান জানাচ্ছি।”


খাদ্য, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক আসর

প্যান্ডেলটি যেন হয়ে উঠেছিল ছোট্ট এক “বাঙালি মেলা।”

  • খাদ্য স্টল: ফুচকা, কাটি রোল, ফিশ ফ্রাই, মিষ্টি দই, রসগোল্লা, আর ভোগের খিচুড়ি-লাবড়া-পায়েশ—সবকিছুতেই ছিল বাঙালি স্বাদ।
  • হস্তশিল্প স্টল: তাঁতের শাড়ি, টেরাকোটা শিল্প, শঙ্খের কাজ, গয়না—সব মিলিয়ে এক সমৃদ্ধ প্রদর্শনী।
  • সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: প্রতিদিন সন্ধ্যায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটক, এমনকি তরুণ শিল্পীদের ব্যান্ড পারফরম্যান্সে জমে উঠেছিল উৎসব।

মিডিয়া পার্টনার আর বাংলা

এই মহোৎসবের মিডিয়া পার্টনার ছিল আর বাংলা। তারা পুরো পূজোকে লাইভ সম্প্রচার করেছে, ফলে দূরদূরান্তে থাকা মানুষও যুক্ত হতে পেরেছেন এ আনন্দে।


নতুনের সূচনা

যদিও গ্রেটার নয়ডায় আগে থেকেই ২৫ বছরের পুরনো দুর্গোৎসব রয়েছে, গ্রেটার নয়ডা বঙ্গীয় সমাজের এই প্রথম উদ্যোগ শহরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, “এটা কেবল শুরু। আগামী বছরগুলোতে আমরা চাই এই পূজো হোক আরও বৃহৎ, আরও ঐক্যের প্রতীক।”


উৎসবের আবহ

প্যান্ডেল ভরে গিয়েছিল নানা দৃশ্যে—প্রবীণদের কলকাতার পূজোর স্মৃতিচারণ, শিশুদের কোলাহল, পরিবারগুলির ছবি তোলা, আর দেবী দূর্গার সামনে ভক্তদের অর্পণ। ঢাকের বাদ্যি, ধূপের গন্ধ, আর ভোগের সুবাস মিশে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।

admin

admin