
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ সংবাদ শিরোনামে ফের মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবীর। তাঁর বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে বিজেপি’র হয়ে ভোট করানোর অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলেজেন্সি-র ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে যদিও সেই অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। রাজ্য বিজেপি ওই বিতর্কিত ভিডিওকে ‘জাল’ তকমা দিয়েছে।
তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড নেতা হুমায়ুন কবীর নতুন দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি ফের বিধায়ক ভোটের লড়াইতে নাম লিখিয়েছেন। তাঁর জোট সঙ্গী ওয়াইসির দল মিম। ইতিমধ্যে হুমায়ুনের হয়ে মুর্শিদাবাদে এসে সওয়ালও করে গিয়েছেন এই নেতা। উড়ানে চেপে ভোট প্রচারের ‘স্বপ্ন’ও সফল হয়েছে হুমায়ুনের। কিন্তু এখনও অনেক পথ ওড়া বাকি ছিল। তার আগেই তৃণমূলের তিন নেতা অরূপ বিশ্বাস, কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিক সম্মেলন করে আজ বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, হুমায়ুন কবীর এক হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে বিজেপি’র সঙ্গে আঁতাত করে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন।
এমনকি ওই তিন নেতা দাবি করেছেন, মুসলমানদের বোকা বানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারানোর চক্রান্ত করেছিলেন হুমায়ুন। ফিরহাদ বলেন,’এটা লজ্জার। ধর্মীয় আবেগ নিয়ে ভোট কেনাবেচা যায়!’ তবে গত বছর ডিসেম্বরের ১৯ তারিখ দেখানো সেই ভিডিও নিউজ ট্রেন্ড অব ইন্ডিয়া যাচাই করেনি। কিন্তু হুমায়ুনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ওরা ভেবেছে এ আইয়ের সাহায্যে আমার মুখে কথা বসিয়ে মুসলমান সমাজের কাছে আমাকে ছোট করবে। আমাকে ভোটে হারাতে না পেরে এখন এইসব করছে। আমি কাউকে ছাড়ব না। ওদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো।’
বিজেপি ভিডিওটি জাল বলে দাবি করেছে। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এদিন বলেন, “এটা পুরোপুরি সাজানো ভিডিও। তৃণমূলের তৈরি করা এই সমস্ত নাটক এ রাজ্যে আর চলবে না।” তিনি আরও বলেন, ‘হুমায়ুন যে টাকা পেয়েছেন সেটা তিনি তাঁর অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করে দেখিয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল কগ্রেস কেন আদালতে এই বিষয়ে তদন্ত চাইছে না।’
হুমায়ুন কবীর নতুন দল তৈরি করার আগে বেলডাঙার মাটিতে বাবরি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরে এ জে ইউপি দল তৈরি করে ভোটে নেমে নিজে রেজিনগর ও নওদায় প্রার্থী হয়েছেন দলের চেয়ারম্যান হিসেবে। কিন্তু পদে পদে বাধা পেয়েছেন। কখনও দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেও তা বাতিল করতে হয়েছে। কখনও নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তাঁর মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলা হওয়ায় অসম্মানিত হয়েছেন। তবুও এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এবার তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে ভোট ময়দানে তার মোকাবিলা কীভাবে করেন প্রবীণ এই নেতা তা দেখার অপেক্ষায় মুর্শিদাবাদ তথা রাজ্যের মানুষ।