
কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। একটা মানুষের যতগুলো বদগুন বা আরোও ভালো করে বললে বাজে গুন থাকা দরকার এই মানুষটির সবটা রয়েছে ! সেই পুলিশ অফিসার ‘নাবালক’ ছেলেদের ‘মদ্যপ’ অবস্থায় মারধর করবেন এটাই তো স্বাভাবিক। এমনকি মহিলাদেরও মারতে দ্বিধা করবেন না।

এক নজরে দেখে নিন তাঁর সেই বদ গুন গুলো :
** পশুদের ভালোবাসেন কোন কারন ছাড়াই। বিশেষ করে কুকুর। তাঁর নিজের কাছে থাকা কুকুরদের সন্তান স্নেহে পালন করেন। তাদের সঙ্গ ছাড়া একটা মুহূর্তও কাটাতে পারেন না। সন্তানদের আমরা যেমন আগলে রাখি সেভােবই উনি আগলে রাখতে চান প্রাণী জগত কে। বলুন তো এটা মানা সম্ভব ! কেন উনি পশুপ্রেমী হবেন! জানোয়ার প্রেমী না হয়ে! এ প্রশ্ন ওঠা কি একেবারে স্বাভাবিক নয় ?
** সময় পেলে বইপত্তর ঘাঁটেন। হালকা টাকের উপরে থাকা চশমা চোখের উপরে দিয়ে বেছে নেন প্রিয় বই। মগ্ন থাকেন সেখানে। ধুর মশাই, ডিজিটাল যুগে এসব কেউ করে! কেন এভাবে বই পড়বেন। মনে নেই সেই প্রবাদ, ‘লেখা পড়া করে যে….!’ আপনি অনাহারে না মরলেও অপমানে মরুন। পড়াশুনা করলে এমনই হবে।
** আর কি যে কানের উপরে লম্বা তুলি রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা ছবি আঁকেন কে জানে। তাতে কি হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়িয়ে শহর কোলকাতায় সমাদৃত হয়েছে তাঁর আঁকা ছবি। অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদে রয়েছে দ্যুতিমানের নাম। এটা কতবড় অপরাধ। কেন পশুপাখিদের নিজের কল্পনার জালে জড়িয়ে ছবি আঁকেন। রংয়ের নেশায় বঁুদ হয়ে ওঠা এ কেমন ধরণের মানুষ।
** তখন উনি শহর বর্ধমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এর দায়িত্বে। শক্তিগর এলাকার স্টেশন বাজারের কাছে এক নাবালক কে দেখতে পেলেন মধ্য রাতে। ছেলেটিকে কাছে ডেকে জানলেন সবটা। তাকে নিয়ে এলেন বর্ধমান থানায়। পরের দিন সেই ছেলেটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সহ তার পোশাক, খাবার দাবারের ব্যবস্থা করলেন। সরকারি চেষ্টায় ছেলেটিকে একটি হোমে পাঠালেন। খোঁজ রাখলেন নিয়ম করে। আজ সে ছেলে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই কাজ ‘নেশাগ্রস্থ’ অবস্থা ছাড়া কখনো করা যায় নাকি।
** তাঁর বাড়ি যে জেলায় সেই জেলার দুঃস্থ শিল্পীদের পাশে নিয়ম করে গোপনে ‘আর্থিক’ সহযোগিতা করেন এখনো। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত থাকা অপরাধ নয় ?
** বাজি পোড়াতে নিজেও ভালোবাসেন। জানেন কি সেটা পুরোটাই আতবাজি। দূষণ নিয়ন্ত্রনাধীন
পরিবেশ কে ভালোবেসে চেষ্টা করেন নিজের জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার না করতে। নিজের বাড়িতে প্রচুর গাছ লাগান। আশপাশের এলাকায় গাছের বৃদ্ধি ঘটতে যারা গাছ কাটেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
এত ‘বদগুন’ থাকা একজন মানুষ রাত প্রায় ১টা নাগাদ তার বাংলোর পাশে বাজি ফাটানোর জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন সেটা অপরাধ নয়! তার পরে আবার ‘নাবালক’!

আচ্ছা আমাদের সংবিধানের কোন ধারা,উপধারায় লেখা রয়েছে বলতে পারেন, নাবালক কোন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারা যাবে না! আইনে একটা বিষয় অবশ্য বলা হয়েছে, ‘অপরাধ প্রবণতা ও তার ধরণ দেখে বিচারক একজন নাবালক কে সংশোধিত হবার সুযোগ দিতেই পারেন।’ কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবি সুপ্রিয় সামন্ত বলেন, ‘সারাাদিন ধরেই আমরা কোচবিহারের পুলিশ সুপারের বাংলোর পাশে ফাটানোর বিষয়টি দেখেছি।

প্রথমেই আমার যেটা মনে হয়েছে, যে মহিলা নিজেকে আইনজীবি পরিচয় দিয়ে এই ঘটনায় অপরাধীদের নাবালক বলে তাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন, তার লাইসেন্স বাতিল করা উচিতয় একজন আইনজীবির, কখনোই আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলা উচিত নয়। সরকার যখন রাত ১০টার পরে বাজি ফাটানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেখানে কেন রাত ১ টারর সময়ে বাজি ফাটছিলো? শুনলাম উনি বলছেন, এসে শাসন করতে পারতো। সেটাইতো করেছে। এতে অপরাধ কি হয়েছে? আর যেখানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে কিভাবে বাজি ফাটানো হচ্ছে।’ কোচবিহারের গীতলদহ আতিয়াবাড়ির বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অমল কুমার সরকার বলেন, ‘এই ঘটনা নিন্দনীয়। পুলিশ সুপার কে আমরা অনেকেই চিনি। ওনার মতন শিক্ষিত, শিল্প-সংস্কৃতির মানুষ আমাদের এখানে আগে আসেনি। আর উনি মারধর করবেন এটা বিশ্বাস যোগ্য নয়। আর যদি করেও থাকে পুলিশ মারধর তবে বেশ করেছে। রাত ১টায় শব্দ বাজি ফাটাবে কেন। আর নাবালক বলে যাদের বলা হচ্ছে তারা কি সত্যিই তাই! তাহলে তাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। কেন মধ্যরাতে নাবালক-রা রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে।’ বড় আতিয়াবাড়ি(পূর্ব)-র বাসিন্দা অলোক বিশ্বাস বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখুন কিভাবে রাত প্রায় ১ টা নাগাদ বাজি ফাটানো হচ্ছে। পুলিশ তারপরে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা অপরাধ কিসের। পুলিশ গিয়ে মারধর করেছে সেটা বেশ করেছে। পুলিশ এই মারধর বন্ধ করে বন্ধু হতে গিয়েই বিপদ বাড়িয়েছে। পুলিশ যদি মারধর করে থাকে তাহলে বেশ করেছে। রাতের বেলায় আপনার আনন্দের নামে আপনি অন্যদের কষ্ট দেবেন সেটা হওয়া উচিত নয়।’

এখনো অবধি বিভিন্ন চিরিয়াখানায় বেশ কিছু পশু পাখি কে দত্তক নিয়েছেন। আচ্ছা বলুন তো মানুষের বাচ্চাদের দত্তক না নিয়ে উনি পশুদের বাচ্চাদের দত্তক নিচ্ছেন। তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করার জন্য টাকা খরচ করছেন। এটা কি ঠিক কাজ! উনি গভীর রাতে কিছু মদ্যপ, অসভ্য বেয়াদপ ‘নাবালক’ ছেলে তার সন্তানসম কুকুরদের বিরক্ত করার জন্য, তাদের ভয় দেখানোর জন্য নিজের নিরাপত্তা রক্ষীদের পাঠিয়ে শুধু বলেছিলেন সরে যেতে। সেটা তারা করেনি। ওনার উচিত ছিলো ওই ‘নাবালক’দের কোলে করে এনে নিজের বাংলোয় বসিয়ে বলা, ‘বাবারা তোমরা বাজি ফাটাও। আমি দেখব।’