বাইক বন্ধ করে কি ‘বাহিনী’ ঠেকাতে পারবে কমিশন !

দেবাশিস ভট্টাচার্য : বর্তমান সময়ে বাইক সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন্য যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এমনকি সাধারণ মানুষ—সবার কাছেই এটি সহজ ও সাশ্রয়ী পরিবহন। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে সাধারণভাবেই মানুষ এখন বাইক ব্যবহার করে। এখন বাইক ব্যবহার বহু অংশেই বেড়ে গেছে অন্য যেকোনো পরিবহন থেকে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দিনের অনেক আগেই বাইক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে। এত দিনক্ষণ মেনে চলা, সময় মেপে ব্যবহার করা এক কথায় অসম্ভব বলা যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে অভিযোগ উঠেছে যে, বাইক বাহিনী ব্যবহার করে দুষ্কৃতীরা দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে ভয় প্রদর্শন, অশান্তি সৃষ্টি বা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। সেই কারণেই আগেভাগেই কড়াকড়ি আরোপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে কমিশন। তাই আগে থেকেই নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চাইছে। প্রশাসনের দাবি, আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হলে সম্ভাব্য অশান্তি অনেকটাই রোখা যায়।

তবে এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাইক বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হলে কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি কাজ বা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটবে। জরুরী কাজের জন্য প্রশাসন থেকে পারমিশন নেওয়া সব সময় অসম্ভব এটা মোটেই কার্যকরী ব্যাপার নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দুষ্কৃতীদের দমন করতে গিয়ে কেন সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হবে।নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের পদক্ষেপ যুক্তিযুক্ত হলেও তার প্রয়োগে ভারসাম্য রাখা জরুরি। অর্থাৎ, যাতে দুষ্কৃতীদের দমন করা যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়। হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরো অনেক আগে থেকে মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজন ছিল।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই আগাম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক চললেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগের উপরই। মানুষ বিকল্প উপায় খুঁজে নেবে, সব জায়গায় একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। আজকের দিনে বাইকের ব্যবহার খুবই সাধারণ ও সহজলভ্য। আরও অন্যভাবে নিয়ন্ত্রিত করা যেতে পারত। একাধিক বাইক একসাথে না যেতে দেওয়া, বাইকের পেছনে মানুষ বসানোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, বাইক যাওয়া আসার সময় চেকিং, আরো অনেক আগে থেকে মানুষকে জানানো এগুলো করলে মানুষের সুবিধা হতো নয়তো সামগ্রিকভাবে মানুষের অসুবিধাই বেশি হবে। বলা যেতে পারে এটা একটা তুঘলকী হাস্যকর সিদ্ধান্ত যা মোটেই মানুষের হিতকর নয়। প্রশাসনের যদি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করার মানসিকতা থাকে তাদের নজরদারি যদি তীক্ষ্ণ সুদৃঢ় হয় তাহলে এই বাইক বাহিনীকে অন্য অনেক ভাবেই রূখে দেওয়া যেতে পারে। কিছুদিনের জন্য হলেও মানুষ প্রাচীনকালে ফিরে যাবে, হেঁটে হেঁটে এদিক ওদিক যাতায়াত করবে তাতে আর যাই হোক বা নাহোক শরীরের কিছুটা শারীরিক উন্নতি হবে।