
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুরঃ রাত পোহালে নির্বাচন। কাল প্রথম দফার নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনেও সেই ভোট হবে। সেই নির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই সাজো সাজো রব বুথে বুথে। আজ বুধবার সকাল থেকেই ভোট কর্মীরা ভিড় করে এসেছিলেন ডিসিআরসিএস ভেন্যূতে। তবে এবারের ভোট ব্যতিক্রম বলছেন ভোট কর্মীরাও। অন্যবার বুথে যেতে যে ভয় কাজ করে তাঁদের মধ্যে এবার সেটা নেই বলেই দাবি করেছেন তাঁদের অনেকেই।
জেলার পাঁচ জায়গায় হয়েছে ডিসিআর সিএস। কান্দিতে ডিসিআরসিএস করা হয়েছে কান্দি রাজ কলেজ ও কান্দি রাজ হাইস্কুলে। জঙ্গিপুর রঘুনাথগঞ্জ বয়েজ হাইস্কুল ও রঘুনাথগঞ্জ পলিটেকনিকে হয়েছে ডিসিআরসি। বহরমপুর ওয়াইএমএ ময়দানে। ডোমকল এসডিও অফিস ময়দান ও লালবাগ এসডিও ময়দানে করা হয়েছে ডিসিআরসিএস। মুর্শিদাবাদে প্রায় তিরিশ হাজার ভোট কর্মী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ভোট গ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছে ৬১৫৯টি।
তবে নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থা নিয়ে বহরমপুরে সরব হয়েছেন ভোট কর্মীরা। দিনভর হক আদায় নিয়ে বিতর্ক পাল্টা বিতর্কে সরগরম হয় ওয়াইএমএ ময়দান। শেষবেলাতেও চুড়ান্ত হয়রান হতে হয়েছে ভোট কর্মীদের এমনটাই অভিযোগ। ভোট কর্মী সুব্রত পাল সহ প্রায় ৫০-৫৫ জন বেলডাঙা বিধানসভার রিজার্ভ কর্মী হিসেবে ডিউটি যাওয়ার কথা বহরমপুর থেকে। রাত আটটা পর্যন্ত তাঁদের না হয়েছে উপস্থিতির সাক্ষর না পেয়েছেন ভোটের টাকা। তাই নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করাতে বাধ্য হন কর্তব্যরত আধিকারিকরা। এমনটাই অভিযোগ ভোট কর্মী সুব্রত পালের। অবশেষে তাঁরা বুথে যাওয়ার ছাড়পত্র পান রাত সাড়ে ন’টার একটু আগে।
তাছাড়াও বুথে পৌঁছে খাবার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভোট কর্মীরা। এই চরম অস্বস্তির মধ্যে রাত কেটে ভোরের অপেক্ষায় তাঁরা। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় ২২ টি বিধানসভায় মোট ভোটার রয়েছে ৫০,২৬,২১৩ । এর মধ্যে পুরুষ ভোটার- ২৫,৮৮,৭৬৪, মহিলা ভোটার- ২৪,৩৭,৩৭৪, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭৫ জন। মুর্শিদাবাদে মোট ভোট গ্রহন কেন্দ্র ৬১৫৯। এর মধ্যে স্পর্শকাতর কেন্দ্র ১০৬৬, অতিস্পর্শকাতর কেন্দ্র রয়েছে ২৩২৮। স্পর্শকাতর এলাকা ৯৯০টি। ভোটের কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে ৩১৬ কোম্পানি।