রাজনৈতিক নেতাদের গ্রামে প্রবেশ নিষেধ,ভোটের আগে পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য


ভোটের আগে গ্রামের দেওয়াল রং করা হয়। সেখানে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাদের দলের সমর্থনে প্রচার করেন। গ্রাম জুড়ে অনেকেই লাগান তার দলের ফ্লেক্স, ফেস্টুন থেকে ফ্ল্যাগ। এবারে একেবারে উল্টো ছবি দেখা গেলো গলসি থানার সিংপুর গ্রামে। যখন রাজ্যে বিজেপির তাবড় তাবড় নেতারা সভা করছেন। যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে জনসভা করছেন রাজ্যের তৃণমুল নেতারা। যখন রাজ্যের গ্রামে গ্রামে প্রার্থী নিয়ে প্রচার করছে সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা। ঠিক সেই সময়ই গ্রামে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রামে প্রবেশ নিষেধ এই পোস্টার পড়ল। যাকে ঘিরে করে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির সিংপুর গ্রামে। ওই ব্যানারে সতর্কীকরণ ও গণ-বিঞ্জপ্তি বলে লেখা হয়েছে। ‘আগে ভোটার লিস্ট সংশোধন, তারপর গ্রামে প্রবেশ’। এছাড়াও ওই ব্যানারে লেখা আছে যতদিন না পর্যন্ত ভোটার লিস্টের নাম ও তথ্যের যথাযথ সংশোধন হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীদের গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ব্যানারে দাবি করা হয়েছে, সুষ্ট ও নির্ভুল ভোটার তালিকা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের লড়াই। তবে এই ব্যানার কে বা কারা লাগিয়েছে তা জানা যায়নি। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই মুুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে গ্রামের বাসিন্দা কাজি বদরে আলম বলেন, ‘গ্রামেরই কেউ এই ব্যানার লাগিয়েছে। চোখের জল ফেলতে ফেলতে তিনি বলেন আমার দুই ছেলের নাম বাদ গেছে, বিজেপি রোহিঙ্গা বলছে, আমি খুবই আতঙ্কে আছি। আমার বাড়িতে ছয়টি ভোটার। ছেলেদের ভোটার কার্ডে আমার নাম বদরে আলম কাজি থাকায় বাদ দিয়েছে। আমরা সব প্রমান জমা দিয়েছি। তারপরও নাম বাতিল করে দিয়েছে। ভেজা গলায় তিনি আরও বলেন, আমরা কোন ভুল করিনি। নির্বাচন কমিশনের লোকেরাই আমার কাজী টাইটেলটা আগে পিছু করেছে। কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের খবর নেয়নি। সেই রাগেই হয়তো গ্রামের ছেলেরা ওই পোস্টার লাগিয়েছে।’
