News Trends of India

অরুণোদয়

Share:
অরুণোদয়

অনিকেত দত্ত : আপনাকে আমি চিনি না। বিশ্বাস করুন আমার এই পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া সাদামাটা সাংসারিক জীবনে আপনাকে একবার কিছুদিন নিয়ম করে দেখেছিলাম একটা সিরিয়ালে। সেখান থেকেই এক টুকরো স্মৃতি বাঁচিয়ে রেখেছিলাম আপনার জন্য। তারপরে নানা ঘটনায় মাঝে মধ্যে সমাজ মাধ্যমে আপনার মুখ দেখেছি। আপনার ছোটখাটো ইন্টারভিউ দেখেছি। আর ভালোবাসাটা বেড়েছে। শুধুই বেড়েছিলো।

কেন জানিনা, আপনার তালসারিতে গিয়ে হুট করে ডুবে যাওয়া। পরে আপনার না থাকার খবর এসবের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে চাইনি। আপনি লোকটা এমনই ছিলেন, যে সোজা সাপটা, কোন রাখঢাক নয়। ভালো কে ভালো, সাদা কে সাদা বলার মধ্যে আপনি কোন আলাদা ‘ইঞ্চির’ কথা বলেননি।

সহজ কে নিয়ে আপনার নানা লেখা, কথা। আপনাদের জীবনের নানা দিক সবই ঠিক আছে। কিন্তু লাইট, ক্যামেরা অ্যাকশন এর জায়গাটা কেমন স্থায়ীভাবে বাদ চলে গেলো। অভিনয় নিয়ে নিজেই নানা কথা নানা সময়ে বলেছিলেন। কিন্তু একটা ভালো মানুষ হতে গেলে কি হতে হয় সেটাতো বলে গেলেন না বস…

স্ত্রীকে তো বড্ডো বেশীই ভালোবাসতেন। নানা খুনসুটির মধ্যে দিয়ে ছেলেকেও বেশ যত্নেই তৈরী করেছিলেন। তাহলে কেন এত তাড়াহুড়ো করলেন বলুন তো শর্ট টা দেবার সময়।

নিজেই লিখে গিয়েছেন না থাকার সময়ের কথা। সেখানে পাড়ার ক্লাবে কিভাবে থাকবে দেহটা এমনকি সেটাও। কিন্তু কোথাও তো সহজের কথা লিখে যাওনি তুমি। ওটা লেখার জন্যও একবার ফিরে এসে, টুক করে অ্যাকশ, লাইট ক্যামেরা অন করে দিয়ে প্যাকআপ করে চলে যাও ভাই প্লিজ…

‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারিতে গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার আচমকাই আসে খবর দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। মুহূর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্য জুড়ে। একজন ছোট্ট থেকে লড়াই করা সাধারণ অভিনেতার মৃত্যুতে এভাবে এত সাধারণ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়া আগে কেউ দেখেনি। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে দেখা গেল রাহুলের মুখাগ্নি করল ১৩ বছরের পুত্র সহজ। পরনে সাদা কুর্তি। অস্থিভস্ম সঙ্গে করে ছেলেকে আগলে নিয়ে কেওড়াতলা শ্মশান ছাড়েন প্রিয়াঙ্কা। ভোরের আলোয় আমাদের মধ্যেই থাকবেতো রাহুল

Manash Biswas

Manash Biswas

অরুণোদয়