ফের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহ, আটক হাওড়ার মিজানুর

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আদতে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা। কিন্তু নাম মিজানুর। তার ওপর কথা বলেন বাংলায়। আর এটাই সন্দেহের অঙ্কটাকে ২-এ ২-এ ৪ করে দিল। পরিণাম— মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হয়ে প্রায় ২৪ ঘন্টার মানসিক হেনস্থা। শেষে হাওড়া জেলাপুলিশের পাঠানো পরিচয়ের কাগজপত্র দেখে রেহাই দেওয়া হল মিজানুরকে। টানা একদশকের মুম্বাইয়ের পেশার তল্পি গুটিয়ে, ট্রেনে হাওড়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন বাংলাভাষী মিজানুর।
বুধবার মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজ থানা এলাকার ঘটনা। পরিবারসূত্রে জানা গেছে— গত প্রায় দশবছর যাবৎ সান্তাক্রুজ এলাকায় বসবাস করছিলেন, হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা তথা পেশায় দর্জি মিজানুর ও তাঁর দাদা রজ্জাক। কিছুদিন আগে রাজ্জাক বাড়ি ফিরে এলেও মিজানুর সেখানেই ছিলেন। বুধবার হঠাৎ মুম্বই পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ মিজানুরের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইলে, সে ভোটার এবং আধার কার্ড দেখায়। মিজানুরের অভিযোগ, পুলিশ নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সেই পরিচয় মানতে চায়নি।
এরপর সেখান থেকেই দাদা রাজ্জাককে গোটা ঘটনা জানিয়ে ফোন করেন মিজানুর। এরপর দ্রুত হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রজ্জাক।
হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের সুপার সুবিমল পাল জানিয়েছেন, তাঁদের তরফে মুম্বই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিজানুরের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে মুক্তি দিয়েছে মুম্বই পুলিশ।
একজন ভারতীয় নাগরিককে শুধু সন্দেহের বশে এভাবে আটক করে রাখা এবং সরকারি পরিচয়পত্র অগ্রাহ্য করার ঘটনায় ফের বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে, উলুবেড়িয়া এলাকায়। আর সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে আরও গুরুতর এক অভিযোগ। মিজানুরের পরিবারসূত্রে দাবি করা হয়েছে— মুক্তির আগে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে সান্তাক্রুজ পুলিশ। যদিও এ ব্যাপারে মুম্বাই বা রাজ্য পুলিশের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি