News Trends of India

ভোটে কি সত্যিই সাধারণ মানুষের কোন লাভ হয় !

Debasish Bhattacharya
Debasish Bhattacharya/
१०३बार देखा गया
अपडेट रविवार, 19 अप्रैल 2026
Share:
ভোটে কি সত্যিই সাধারণ মানুষের কোন লাভ হয় !

দেবাশিস ভট্টাচার্য : দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে, অল্প বৃষ্টিতেই  ড্রেনের জল রাস্তায় চলে আসে, ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণে নানা রকমের রোগের প্রাদুর্ভাব লেগেই থাকে, খালের উপরে ব্রীজটা না হওয়ার জন্য বহু ঘুরে ঘুরে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে হয়, এলাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গন গুলো মেনটেনেন্স এর অভাবে ভেঙে পড়তে থাকে, জিনিসপত্রের দাম হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়, কাজ না থাকার জন্য দুবেলা খাবার কিভাবে জোগাড় হবে, রোগের চিকিৎসার খরচ কিভাবে করব সেই সব চিন্তায় পাগল হয়ে যেতে হয়। সারাদিন রাত উদয়াস্ত খেটে তৈরি করা ফসলের দাম না পাওয়া চাষীদের সামনে আত্মহত্যা ছাড়া উপায় থাকে না।

এইরকম পরিস্থিতিতে পাঁচ বছর আগে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারা সত্বেও সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করে থাকে নির্বাচন আসার জন্য। সকলেই ভাবে নির্বাচনের আগে এই কাজগুলো, এই অসুবিধা গুলো সরকার পক্ষ দূর করে দেবে। কিছু কিছু জায়গায় হয়েও থাকে তাই হঠাৎ করে রাতারাতি রাস্তার কাজ শুরু হয়ে যায়, রাস্তা পরিষ্কার হয়, ড্রেনের মেরামতের কাজ শুরু হয়,  নানা প্রকল্প ঘোষণা হয়, নানা ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয় বেকার যুবক-যুবতীদের স্বপ্ন দেখানোর জন্য দেওয়া হয় নানা প্রতিশ্রুতি।

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের বেশ কিছু কাজ পড়ে থাকে সময়ের অভাবে, অর্থের অভাবে, পরিকল্পনার অভাবে, ব্যবস্থার পরিবর্তন না ঘটানোর জন্য, কাজ না করার মানসিকতার জন্য, এমন কি ওই এলাকায় মানুষ এর আগের নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছিল সেই বিচারে। অবস্থার বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয় না। বেকার ছেলেরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায় একটা যাহোক চাকরির জন্য, রাস্তায় টোটোর সংখ্যা, গিগ শ্রমিকদের (অসংগঠিত ক্ষেত্রে) সংখ্যা

আশ্চর্যজনকভাবে বাড়তে থাকে, জোম্যাটো ও ব্লিনকিট অ্যামাজনের বিশাল ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় সারাদিন রাত দৌড়াদৌড়ি  চলতে থাকে। স্বাস্থ্য,শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এসবে যখন মানুষের

রোজকারের দিনলিপির বিশেষ কোন পরিবর্তন হয় না তখন পাঁচ বছর অন্তর ভোট আসে, নির্বাচনের দামামা বেজে ওঠে। মানুষ আবার আশায় দিন গুণতে থাকে। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা হাতজোড় করে সাধারণ মানুষের বাড়ির দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। ভোট ব্যাংক রক্ষার্থে যাবতীয় প্রতিশ্রুতি দেয়, অনেক সময় উপঢৌকন দেয়। ভোটের সময় ভোটার হয়ে যায় তখন সবচেয়ে আপনজন। সে ধনী হোক আর গরিব হোক। ভোট বা নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি, কিন্তু প্রশ্ন থাকে এতে সাধারণ মানুষের বাস্তবে লাভ কতটা হয়? তাত্ত্বিকভাবে ভোটের লাভ গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমে মানুষ নিজের প্রতিনিধি বেছে নেয়। এর ফলে নেতৃত্ব বদলের সুযোগ থাকে। খারাপ শাসককে সরাতে পারে, পছন্দের প্রতিনিধিকে আনতে পারে, জনমতের

প্রতিফলন ঘটে। জনপ্রতিনিধিকে জনগণের চাহিদা শুনতে হয়। তার মত প্রকাশের অধিকার শিক্ষা স্বাস্থ্য ন্যূনতম ব্যবস্থায় বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষা করার সুযোগ পায়। বাস্তবে সাধারণ মানুষের লাভ কোথায় কতটা নির্ভর করে কয়েকটা বিষয়ের উপর। যদি নির্বাচিত সরকার দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সৎ ভাবে কাজ করে তাহলে রাস্তা পরিবেশ শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিষেবা সাংস্কৃতিক পরিবেশ উন্নত হয়। সামাজিক প্রকল্পগুলো বিভিন্ন ভাতা রেশন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।  ভোটের ভয়ই অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা জনগণের জন্য কাজ করতে বাধ্য হয়। আবার ভোটের আগে অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা পূরণ হয় না। রাজনৈতিক হিংসা মানুষের মনের মধ্যে ভীতি ভয় সঞ্চার করার ফলে সাধারণ মানুষ দমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে ধর্ম জাত ভাষা ইত্যাদি নিয়ে মানুষকে ভাগ করার প্রবণতা  যা আসল উন্নয়নকে আড়াল করে। তাহলে কি ভোটের কোন মূল্য নেই! অতি

অবশ্যই আছে। আসল লাভ তখনই হয় যখন মানুষ সচেতন ভাবে ভোট দেয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি চায়, নাগরিক হিসেবে সক্রিয় থাকে, প্রশ্ন করে দাবি তোলে।  ভোট একা সাধারণ মানুষের জীবন বদলায় না। কিন্তু এটি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী হাতিয়ার। এখন প্রায় প্রতি বছর ভোট হয়। লোকসভা বিধানসভা পৌর ভোট পঞ্চায়েত ভোট ছাড়াও অন্যান্য যেমন সমবায় বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের ভোট হয়। বলা যেতে পারে এটা একটা বাৎসরিক উৎসব লেগেই থাকে। যদি আমরা আমাদের রাজ্যে অর্থাৎ

পশ্চিমবঙ্গে গত ৫০ বছরের শাসনব্যবস্থার পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যাবে বামেদের আমলে ভূমি ও গ্রামীণ উন্নয়ন যথেষ্ট হয়েছিল তাতে তাদের গ্রামের রাজনৈতিক সংগঠন শক্তিশালী হয়েছিল, সাধারণ কৃষকদের জন্য এটি ছিল বড় লাভ। আবার এখন যদি আমরা তৃণমূলের শাসনে দেখি সরাসরি নগদ সহায়তা ও স্কিম ভিত্তিক সহায়তার রাজনীতি মহিলা ও ছাত্র-ছাত্রীদের বেশ কিছু প্রকল্প  রিলিফ দিয়েছে। বামেদের সময় চেষ্টা হয়েছিল একটা কাঠামোগত পরিবর্তন করা আর এই সময় চেষ্টা হয়েছে সাধারণ মানুষকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া।‌ বামেদের সময় কৃষি আমাদের ভিত্তি শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ স্লোগান দিয়ে শুরু করলেও সেই ভাবে তখন কলকারখানা গড়ে তোলার সুযোগ পায়নি। তাই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়েনি।

একইভাবে এখন তৃণমূল সরকারের শাসনের সময় আমরা দেখতে পাই কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সেভাবে কার্যকরী কোন ভূমিকা নিতে পারেনি যার ফলে মানুষের মনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বেড়েছে। বেকার ছেলেমেয়েদের যুব সাথী প্রকল্পের লাইনে দাঁড়ানোর চিত্র আমাদের কাছে পরিষ্কার করে দেয়। বহু বছর ধরে বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রশ্নে বিশেষ কোন উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ যে সমস্ত জায়গাগুলোতে ছিল সেগুলো ক্রমশ সংকুচিত হয়ে গেছে।একইভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করা যেতে পারে। খুব যে একটা আশার আলো দেখতে পাওয়া গেছে তা নয়। দুই আমলেই ক্যাডার কালচার একই ভাবে রয়ে গেছে।  সাধারণ মানুষের লাভ হয় আংশিক কিছু বাস্তব সুবিধে পাওয়াতে, পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে। কিন্তু বড় কাঠামোগত সমস্যা থেকেই যায়। ভোটের আগে প্রকল্প ঘোষণা, রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ে, সাধারণ মানুষ কিছু সরাসরি সুবিধা পায়। আবার দীর্ঘ মেয়াদে নির্ভর করে সরকার কতটা কার্যকর হবে, কর্মসংস্থান শিল্প এই বিষয়গুলির ওপর জোর দেবে। ভোট সাধারণত হয় উন্নয়ন সুবিধে রাজনৈতিক প্রভাব এই তিনের মিশ্রণে। সাধারণ মানুষ বোঝে বা বোঝার চেষ্টা করে তাদের কোথায় কতটা সুবিধা হবে। ভোটাররা বিকল্পের মধ্যে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। ভোট মরশুমে নানা রকমের নির্বাচনী রঙিন প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়। কোন দল বলে দু হাজার দেবে কেউ বলে তিন হাজার দেবে তা দেখে আরেক দল বলে ৬ হাজার দেবে। কেউ বলে প্রত্যেক বাড়ি থেকে একজন করে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে।

ভোটাররাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। অনেক ভোটার যেমন উন্নয়ন চায় তেমনি তার ব্যক্তিগত সুবিধাও বিবেচনা করে। আমাদের রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগ, রাজনৈতিক হিংসা দুটোই বড় ইস্যু। এখন হয়েছে আবার ধর্মীয় বিভাজনের এক কুৎসিত রাজনীতি। ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও অনেকে বাধ্য হয় রাজনৈতিক চাপে ভোট দিতে। নির্বাচন কাগজে-কলমে গণতন্ত্রের উৎসব কিন্তু বাস্তবে একটি স্বার্থ আশা ও বাস্তব সমস্যার এক জটিল সমন্বয় যেখানে সাধারণ মানুষের লাভ আংশিক, সম্পূর্ণ নয়। তবু সাধারণ মানুষ আশা রাখে স্বপ্ন দেখে তাদের দিন পরিবর্তনের। ভোটের সময় প্রায় সব রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কাজ কর্মের জন্য সাধারণ মানুষদের নিয়োগ করে। রাজনৈতিক দাদাদের বদান্যতায় এতে বেশ কিছু মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকে।

এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনার জন্য সাধারণ মানুষের অবস্থানের অনেক পরিবর্তন হতে পারে। সাধারণ মানুষ ভোটের আগে সাধারণত চায় সরকারি সুবিধাগুলো বজায় থাকুক। কর্মসংস্থান বাড়ুক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকুক, শিক্ষা স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অরাজকতা দূর হোক, নাগরিক পরিষেবার উন্নতি হোক, রাজনৈতিক পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনৈতিক হিংসা দূর হোক।

সাধারণত এলাকার মানুষ জানে কে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক। ভোটের আগে অফিস আড্ডায় তাদের মধ্যে যে সদ্ভাব দেখা যায় ঠিক ভোটের আগেই দূরত্ব বেড়ে যায়। বচসা তর্কাতর্কি  হয় ঝগড়া মারপিট হতেও দেখা যায়। সাধারণ গরিব মানুষেরা দুবেলা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু প্রয়োজন তা নিয়েই দিন যাপন করতে চায়, সাধারণভাবে অশান্তি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায় না। যদিও পুঁজিগত ব্যবস্থার মধ্যে নানা ধরনের রঙিন রঙিন হাতছানি সাধারণ মানুষের চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন ঘটায়, তাদের প্রায়োরিটি বদলায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের দেখে সাধারণ মানুষের  রাজনৈতিক আদর্শবোধ পরিবর্তন হতে থাকে তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ধরে রাখতে পারেনা। দুর্নীতি হিংসা কু কথার ছড়াছড়ি সাংস্কৃতিক পরিবেশের চূড়ান্ত অবক্ষয় সৎ শিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অভাব সাধারণ মানুষকেও দিনের শেষে ঘরের এক কোণে বসে ভাবতে শেখায়, ভোট কি সত্যিই আমাদের দিন বদলানোর জন্য, এতে কি সত্যিই আমাদের কিছু ভালো হবে!!! সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে এতই বিপর্যস্ত যে নীতি-নৈতিকতা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাববার সময় তাদের থাকে না। তাই স্বল্প মেয়াদের অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করা নয় দীর্ঘ মেয়াদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের চিন্তনে মননে উন্নতি ঘটানোর স্থায়ী ব্যবস্থা রাজনৈতিক দলগুলোকে সঠিকভাবে নিতে হবে তা না হলে ভবিষ্যৎ খুব একটা আশার আলো দেখায় না। তাই সাধারণ মানুষকে ভোটের কাজে শুধু ব্যবহার করলেই হবে না সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট দুর্দশা ঘোচানোর স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ভোট পরিবর্তন আনতে পারে কিন্তু সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান করতে পারেনা।

ভোটে কি সত্যিই সাধারণ মানুষের কোন লাভ হয় ! | News Trends of India