News Trends of India

রাম, না ব্রহ্ম! দীঘার আকাশে রহস্য আলোয় সরগরম ‘এক্স’ রাজনীতি

Manash Biswas
Manash Biswas/
९४बार देखा गया
अपडेट शुक्रवार, 15 अगस्त 2025
Share:
রাম, না ব্রহ্ম! দীঘার আকাশে রহস্য আলোয় সরগরম ‘এক্স’ রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এ যেন সেই সুনির্মল বসু’র ‘সামিয়ানা’ ছড়ার রাজনৈতিক ক্যানভাস। সেই কবিতায় জমিদারবাড়ির একটা পুরনো সামিয়ানা বাইরের মাঠে পেতে শুকনো হচ্ছিল। তাই দেখে সকাল থেকেই গ্রামবাসীরা সেখানে জড়ো হয়ে আসর জমিয়ে দিল। হঠাৎ জমিদারবাড়ির সামিয়ানা এভাবে মাঠে এনে পেতে দেওয়া হল কেন? তবে কি কোনও বড় অনুষ্ঠান হবে! আবার নেমন্তন্ন। রকমারি ব্যঞ্জন দিয়ে ভোজসভা। জটলা থেকে এমনই নানা প্রশ্ন উঠেছিল। শেষে এক ঠোঁটকাটা ছোকরা জমিদারের নায়েবে বেরিয়ে আসতে দেখে সরাসরি প্রশ্ন করল, ‘… ব্যাপারটা কী, নায়েবমশাই?’ এরপরেই কবি লিখেছেন ‘… কাষ্ঠ হেসে যষ্ঠি ঠুকে বললে তখন নায়েবমশাই / উঁই ধরেছে সামিয়ানায়, বাইরে রোদে দিয়েছি তাই!’


গত বুধবার দীঘার আকাশে আচমকা এক আলোকপুঞ্জ দেখা গেল। এরপরেই সদ্যনির্মিত জগন্নাথমন্দির তথা নাম তথা ট্রাস্টের পূজ্য দেবতাকে নিয়ে রাজ্যের শাসক আর বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হল দীঘা আর পুরীর জগন্নাথদেবের মহিমা নিয়ে, কৃতিত্ব আর কটাক্ষের দড়ি টানাটানি। রাজ্যের শাসকদলের আইটি সেলের তরফে এক্স হ্যান্ডেল বার্তায় প্রচার করা হল, এই আলোকরশ্মি আসলে দীঘার জগন্নাথদেবের মহিমা। এই রামধনু যে আসলে তাঁদের দলের নেতৃত্বাধীন সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে স্বয়ং জগন্নাথদেবের আশির্বাদ— এমন ইঙ্গিতও কৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া হল, শাসকদলের একাধিক নেতার এহেন এক্স-পোস্টে। মমতা অফিসিয়াল শীর্ষক এক্স হ্যান্ডেল থেকে আরও বলা হল— এই রামধনু আসলে (দীঘার মন্দিরে) শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের (বৈকুণ্ঠ-প্রেরিত) বার্তা।

সঙ্গের লিঙ্ক দেখুন— ।


তৃণমূলের পোস্ট ভাইরাল হতেই আসরে নামলো রাজ্যের বিরোধী তথা কেন্দ্রের শাসকদলের প্রচারকরা। দলীয় আইটি সেলের তরফে না হলেও, ব্যক্তিগত এক্স হ্যান্ডেলে এই মহাজাগতিক এবং বৈজ্ঞানিক আলোকরশ্মিকে “রামধনু নয়, ব্রহ্মধনু” বলে উল্লেখ করলেন, রাজ্য বিজেপির অন্যতম পরিচিত ‘তরুণ মুখ’ তথা মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ি। রাজ্যের শাসকদলের ওই এক্স হ্যান্ডেল পোস্টকে ট্যাগ করে রাজর্ষির দাবি— এই ব্রহ্মধনু আসলে বাংলার ভাগ্যাকাশে খুব খারাপ কিছুর ইঙ্গিত। সঙ্গের লিঙ্ক দেখতে পারেন.


এই নিয়ে এক্স জগতে শোরগোলের মধ্যেই অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিটকে বেরিয়ে এসেছে, বেশ কিছু যুক্তিবাদী ব্যাখ্যা। বিজ্ঞান-নির্ভর সেই ব্যাখ্যা তুলে ধরে অনেকেই বলছেন— এটা আসলে সেই বাম আমলে চাউর হওয়া গণেশের দুধ খাওয়ার ঘটনা। আসলে আবহাওয়া অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন এলাকায় আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা। তার ওপর ক্যালেন্ডারের পাতায় সুড়সুড় করে হাজির হয়েছে ভাদ্রমাস। ১৫ ই আগস্টের সকাল থেকেই আকাশে ইতিউতি দেখা যাচ্ছে শরতের মেঘ। মাঝেমধ্যেই রোদবৃষ্টির মিশ্র-ম্যাজিক ঝরে পড়ছে। আর কে না জানে— এইসময় হালকা আর ক্ষণিকের বৃষ্টির পরে আকাশে রামধনুর আবির্ভাব মোটেই অলৌকিক কোনও ঘটনা নয়।


এখন প্রশ্ন— তাহলে এই স্বাভাবিক ভূবৈজ্ঞানিক ঘটনায় রাজনীতির সমুদ্র মন্থন শুরু হল কোন অমৃতের সন্ধানে?
মুচকি হেসে বঙ্গ রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সকলই ভোটের লাগিয়া। জগন্নাথের আমরা ওরা তো হয়েই গেছে। এবার জগন্নাথের রশি ধরে আমরা বনাম ওরা টানাটানির পর্ব।

রাম, না ব্রহ্ম! দীঘার আকাশে রহস্য আলোয় সরগরম ‘এক্স’ রাজনীতি | News Trends of India