মদ বিক্রীতে কেন এই প্রথম নিষেধাজ্ঞা

দেবাশিস ভট্টাচার্য : অস্বীকার করার উপায় নেই আজকের দিনে যে তিনটি জিনিস মানুষকে বিশেষ করে যুব সমাজকে প্রভাবিত করেছে সে শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত হোক তা হল মদ মোটরবাইক ও মোবাইল। শুধু যুবসমাজকে বললে হয়তো বিষয়টা সরলিকরণ হয়ে যাবে। যদি মদ বিক্রির হিসেব দেখা যায়, রাজ্যে অফিসিয়ালি প্রায় হাজারের উপর রিটেল দোকান আছে সেখানে মদের লেনদেনের হিসেবে যে চিত্রটা সামনে আসে তাতে যে কেউ বুঝতে পারে এই প্রবণতা কেন! মদের ওপর মানুষের বরাবরই একটা দুর্বলতা আছে।

সেই প্রাচীনকাল থেকেই। ভোগ করার মানসিকতা আছে। আবার কেউ কেউ জ্বালা যন্ত্রণা মনের দুঃখ কষ্ট ভোলার জন্য নেশায় ডুবে থাকতে মদ কে পছন্দ করে। আবার আনন্দ ফুর্তিতে ও মদ খায়। সে যত সাধারণ মানুষই হোক না কেন মদ্যপনের পর নিজেকে রাজা উজির ভাবার একটা শখ থাকে। এর আগে বহু নির্বাচন হয়েছে কিন্তু এতদিন আগে থেকে মদ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা দেখা যায়নি। সাধারণত ভোটের দিন বা তার আগের দিন, এর সাথে গণনার দিন সাধারণত মদের দোকানগুলো বন্ধ রাখা হয়।

কিন্তু এবারের নির্বাচন সব ব্যাপারেই একটা অন্য ব্যতিক্রমী রূপ দেখা যাচ্ছে। সাধারণত নির্বাচন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলার ঝুঁকি থাকলে সরকার বা প্রশাসন মদ বিক্রি বন্ধ রাখে। যাতে ভোটের সময় অশান্তি বা হিংসা না হয়, ভোটারদের প্রভাবিত করতে, ভোট কেনাবেচা করতে মদের ব্যবহার বন্ধ করতে ও আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে সুবিধে হয়। অতীতে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে মদ বিলি করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ গরিব মানুষ অল্প শিক্ষিত মানুষ এই প্রলোভনে পা দেয় এবং এদের মদের বোতল দিয়ে কার্যসিদ্ধি করানো হয়।

সেই প্রবণতা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এতদিন আগে থেকে কেন! নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে মদ বিক্রি এত আগে থেকে বন্ধ থাকলে বড়সড়ো আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে লিকার রিটেল ব্যবসায়ীদের, রাজ্যজুড়ে শতাধিক লাইসেন্স প্রাপ্ত দোকানের দৈনন্দিন লেনদেন হঠাৎ থমকে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেবে। বিক্রি বন্ধ থাকলে দোকানের ভাড়া কর্মচারীদের বেতন এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত খরচ বহাল থাকে ফলে আয় না থাকলেও খরচ চালিয়ে যেতে হবে যা ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। রাজ্যের রাজস্ব আয়ের একটা বিশাল বড় অংশ এই মদ বিক্রি থেকে আসে। মদের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক থেকে রাজ্যের মোট আয়ের একটা বড় উৎস। বেশ কিছুদিন যদি বন্ধ থাকে তাহলে রাজস্ব আয় কমে যাবে, রাজ্যের কোষাগারে যথেষ্ট চাপ পড়বে।

কালোবাজারে গোপনে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দামে মদ বিক্রি করতে পারে বলেও আশঙ্কা থাকে। যারা নিয়মিত পান করেন তারা বিরক্ত বা অস্থির হবেন। রাজ্যে অস্থিরতা হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতদ সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কে নিশ্চিত করাই যদি প্রধান লক্ষ্য হয় প্রশাসন তথা নির্বাচন কমিশন কে চূড়ান্ত সচেতন বা তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখতে হবে। আগামী কয়েক দিন উদ্দেশ্য পরিষ্কার হতে লাগবে। দেখতে হবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরী হয়।